Jobanবিটকয়েন হারাম; মিশরীয় গ্র্যান্ড মুফতি

বিটকয়েন হারাম; মিশরীয় গ্র্যান্ড মুফতি

বিটকয়েনকে হারাম ঘোষণা করে ফতোয়া দিয়েছে মিশরের ফতোয়া বোর্ড। মিশরের আল আহরাম পত্রিকার বরাতে জানা যায়, সেদেশের গ্র্যান্ড মুফতির উপদেষ্টা মাগদী আশহুর বিটকয়েনসহ আরো যত ভার্চুয়াল মুদ্রা আছে সেসবকে “জঙ্গিবাদের অর্থায়নে কাজে লাগানো হয়” বলে অভিযোগ তুলে এটিকে ইসলাম-বহির্ভূত বলে ঘোষণা দেন।

এ ধরনের মুদ্রাব্যবস্থা একটি দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করেন মিশরের সর্বোচ্চ সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এই মুখপাত্র। ফতোয়ায় এই ধরনের মুদ্রাব্যবস্থাকে জুয়ার সাথে তুলনা করেন তিনি।

বিটকয়েন মূলত একধরনের কতৃপক্ষহীন ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল-মুদ্রা। এর সাথে বিশ্বব্যাংক, কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা কোন প্রতিষ্ঠানের কোনও রকম যোগাযোগ নেই। এটি বিনিময়ের ক্ষেত্রে দাতা-গ্রহীতার পরিচয়ও দিতে হয় না। ফলে নানা অবৈধ কাজে এই মুদ্রার ব্যবহার বাড়ছে। এমনকি তথ্য পাচার বা হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে মুক্তিপণ হিসাবে এর বহুল ব্যবহার হচ্ছে। মূলত ইন্টারনেট কেন্দ্রিক এই বিটকয়েন সবার নজরে আসে যখন এক ইউনিটের দাম এক হাজার থেকে উনিশ হাজারে উঠে গেলে। শুরুতে যার একশ ডলারের সমান মূল্য ছিল। ফলে সমগ্রবিশ্বেই এই ধরণের মুদ্রা কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন সবাই। কিন্তু অর্থর্নীতিবিদদের আশঙ্কা হল, যারা এসব মুদ্রার বিনিময়ের সাথে শুরু থেকে জড়িত আছে, তারা যদি বাজার থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, বিপদে পড়বেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কিংবা কেউ যদি মুদ্রাগুলো কম টাকায় কিনে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করতে চান, তাকেও নিয়ন্ত্রণ করাটা। কারণ এসব অদৃশ্য-মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের কোন যুগোপযোগী ব্যবস্থা সরকার বা ব্যাংকের যথাযথ কতৃপক্ষের হাতে নেই।

শুধু মিশর না, জাপান, সৌদি আরবসহ নানা দেশে এরকম ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেন নিষিদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এধরনের বিটকয়েনকে অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে, অনুৎসাহিত করা হয়েছে এ ধরনের মুদ্রায় কাউকে বিনিয়োগ করতে।