Joban‘আমাকে সম্মান দিতে চাইলে বেশ্যা ট্যাগ উঠিয়ে প্রজ্ঞাপন দিন’

‘আমাকে সম্মান দিতে চাইলে বেশ্যা ট্যাগ উঠিয়ে প্রজ্ঞাপন দিন’

‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন তেজগাঁও কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম মান্নান। গত রবিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। সেই মানবন্ধনে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই অতর্কিত হামলা করে বসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সে সময় মরিয়ম মান্নান লজ্জাজনকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রোকেয়া হলের সামনে এক সম্মেলনে তিনি সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি এ সময় বলেন, “আমাকে সম্মান দিতে চাইলে বেশ্যা ট্যাগ উঠিয়ে প্রজ্ঞাপন দিন।”

https://www.facebook.com/msikhan11/videos/1087687071381245/

এসময় তিনি ছাত্রলীগের হামলা ও পুলিশি নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমি সেদিন (রবিবার, ২ জুলাই) শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম। এর আগে আমি ব্যক্তিগতভাবে ফারুক ভাইকে চিনতাম না। সেখানে এসে দেখি কিছু লোক ফারুক ভাইকে বেধড়ক মারতেছে। তখন এ দৃশ্য দেখে আমি ফারুক ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে যাই। তারা এমনভাবে কুকুরের মতো মারতেছে, তা দেখে শুধু আমি না, যে কেউ এগিয়ে যাবে। তারপর আমি ফারুক ভাইকে একটি রিকশায় তুলতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতারা তাকে মেরে একটি মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়”। তিনি আরও বলেন, “তারপর তারা আমাকে ধরে নিয়ে আমার শরীরের কোন কোন জায়গায় হাত দিছে তা আপনারা শুনতে চান? আপনারা আমাকে সিমপ্যাথি দেখাতে আসবেন না। সিমপ্যাথি নেওয়ার মেয়ে আমি না। আমি ইনটেনশনালি এই আন্দোলনে এসেছি। অ্যাজ এ হিউম্যান, আমার কিছু রাইটস আছে। যদি আমার কোনও অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যেতে পারতো। আমাকে কোর্টে চালান করে দিতে পারতো। কিন্তু বাইরের ছেলেরা কেন আমাকে তুলে নিয়ে যাবে। কেন তারা আমার গায়ে টাচ করবে? এটা শুনতে ইচ্ছা করছে আপনাদের? তারা আমাকে একটি সিএনজিতে করে থানায় নিয়ে যায়। তারা আমার সঙ্গে খুব বাজে ব্যবহার করেছে। আমি যখন সিএনজিতে ছিলাম, তখন সিএনজির প্রত্যেকটা মুহূর্ত ছিল আমার কাছে জাহান্নাম। পরে আমি ভেবেছি, হয়তো থানায় গেলে আমি সেভ থাকবো। কিন্তু না, থানা ছিল আমার জন্য সেকেন্ড জাহান্নাম। আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে, তা আপনাদের সামনে বলতে আমার খুব খারাপ লাগছে।”

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আফসানা সাফা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী মোছা. মৌসুমী সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে তারা মিছিল করেন।