সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশের স্বনামধন্য একজন গলফ খেলোয়াড়। জন্ম ২০ নভেম্বর ১৯৮৪ সালে। টাইগার উডস খ্যাত বাংলার সেরা গলফার।কিভাবে বল-বয় থেকে দেশ সেরা গলফার হলেন তিনি? সেইসব গল্প শুনবো আমরা।
সিদ্দিকুর রহমান অনেক ছোট বেলায় ঢাকায় আসেন। তখন তার বয়স তখন ৮ – ৯ বছর হবে। উদ্দেশ্য পড়াশুনা। পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্যামিলিকে সাপোর্ট করার জন্য কাজ খুঁজতে থাকে ছোট্ট সিদ্দিকুর।কয়েকদিনের মধ্যেই বল বয়ের কাজ পেয়ে যায় কুর্মিটোলায়। কাজটি ছিল গলফ ক্লাবে। সত্যিই তা ছিল স্বপ্নের মতো। কুর্মিটোলায় বল কুড়াতে কুড়াতে কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে সিদ্দিকুর । সে মাধ্যমেই সুযোগ মেলে ন্যাশনাল টিমে। শুরু হয় বল কুড়ানোর বদলে বল খেলার। আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন তিনি। ভাগ্যের জোরে আর নিজের কব্জীর যাদুতে দেশের ন্যাশনাল টিমের ১৫০ জনের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান ১ম হন। আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৯৯ সালে অক্টোবরে পাকিস্তানে এশিয়া প্যাসিফিক খেলায় অংশ গ্রহণ করেন। নিজে নিজের থেকে অনুপ্রাণিত হন। গ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা সিদ্দিকুর মনে করেন, ‘আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে অনেক আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়ার উঠে আসবে।’ ঠিকই সিদ্দকুর রহমান গলফে পেয়েছের অবিস্মরণীয় সাফল্য।
২০০৫ সালে প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু করেন। পেশাদার গলফে তিনি এখন বাংলাদেশে বড় বিজ্ঞাপন । সিদ্দিকুর রহমান ২০১০ সালে বাংলাদেশে পক্ষে প্রথম গলফার হিসেবে জয় করেন এশিয়ান ট্যুর শিরোপা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে রিও অলিম্পিকে সরাসরি অংশ গ্রহন করেন। সময়ের প্ররিক্রমায় সিদ্দিকুর রহমান এখন দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় নাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গলফকে চিনিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান-ই। দেশে এখন বেড়েছে গলফ খেলার কোর্স বা সংখ্যা।
সিদ্দিকুর রহমান মনে করেন, ‘গলফ অনেকটা মেন্টাল গেম। সঠিক সময়ে নিজেকে মেলে ধরায় আসল কাজ। সাফল্যের জন্য নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়। প্রতিদিন করতে হয় মেডিটেশন ও হোম ওয়ার্ক। ফিটনেস ট্রেনিং তো করতেই হবে। সঠিক কম্বিনেশন পারে একজন সফল গলফার হতে সাহায্য করতে।’
চ্যালেন্স নিতে ভালোবাসেন সিদ্দিকুর রহমান। নাম্বার ওয়ান গলফার মনে করেন, ‘গলফ খেলে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করার সুযোগ থাকে টুর্নামেন্ট খেলে। আর সে জন্য নিজের মেন্টাল ফিট ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ফিটনেস রাখা জরুরী।’ গলফে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। এটা মনে করেন দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। গলফ্ ব্যয় বহুল খেলা হলেও নিজেকে শেষ পর্যন্ত পেশাদার গলফার হিসেবে তৈরি করেছেন তিনি। গলফে তার আইডল হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার আনিয়েলস। তার সুইং মোশনের প্রতি তার আকর্ষণ আছে।
সিদ্দিকুর রহমান মনে করেন, ‘পেশা হিসেবে অন্য সব খেলার মতো গলফকে বেছে নিতে পারেন তরুণ প্রতিভাবানরা।’ সিদ্দিকুর রহমান দেশ ও দেশের বাহিরে একজন সফল পেশাদার গলফার হিসেবে অনন্য। মেজর ট্যুর্নামেন্ট খেলার স্বপ্ন দেখেন সিদ্দিকুর রহমান।