Jobanব্রিটেনের ফুটবল ইতিহাসের করুণ ট্রাজেডি আইব্রক্স

ব্রিটেনের ফুটবল ইতিহাসের করুণ ট্রাজেডি আইব্রক্স

আইব্রক্স স্টেডিয়াম, স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি। ১৮৯৯ সালে নির্মিত স্টেডিয়ামটি শুরু থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্স এফসির হোম ভেন্যু হিসেবে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অবস্থিত আইব্রক্স পার্ক যুক্তরাজ্যের ফুটবল ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম এবং মর্মস্পর্শী দুটো দুর্যোগের সাক্ষী। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৫০ হাজার ৮৭১ জন হলেও পূর্বে এই স্টেডিয়ামে লাখেরও অধিক দর্শকের একত্রে খেলা উপভোগ করার নজির রয়েছে।

১৮৯৯ সালে নির্মিত আইব্রক্স পার্ক বর্তমানের আইব্রক্স স্টেডিয়াম থেকে ছিল পুরোই আলাদা। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে স্টেডিয়ামটির নাম আইব্রক্স পার্ক থেকে বদলে আইব্রক্স স্টেডিয়াম করা হয়। আইব্রক্স পার্ক নির্মিত হয়েছিল অন্যান্য স্কটিশ স্টেডিয়াম গুলোর মত করেই। পিচের চারপাশে ছিল ওভাল ট্র‍্যাক, মাঠের প্রতি পাশে ছিল একটি করে দর্শক স্ট্যান্ড এবং একটি প্যাভিলিয়ন। শুরুর দিকে আইব্রক্স পার্কের দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ৪০ হাজারের মতন। সেইসময় সেল্টিক পার্ক, আইব্রক্স পার্ক এবং হেম্পডেন পার্ক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকতো স্কটিশ কাপ ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা নিয়ে। তৎকালীন সময়ে স্কটিশ কাপের ফাইনাল আয়োজন করা মানেই ছিল ক্লাবের জন্য ১ হাজার পাউন্ড মুনাফা। এমতাবস্থায় নিজেদের লাভের অংক বাড়াতে এবং ক্লাব ফাইনাল আয়োজনে নিজেদের সুযোগ আরো বৃদ্ধি করতে আইব্রক্স পার্ক তাদের দর্শক ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আইব্রক্স পার্কের পশ্চিম গোলমুখের পেছনে বেশ বড় করে দর্শকদের বসার জন্য সিঁড়িধাপ নির্মাণ করা হয়। যার ডিজাইনার ছিলেন আর্চিবাল্ড। খুবই কম খরচের মধ্যে নির্মাণ করা হয় এই সিঁড়িধাপ। কাঠের তক্তা বল্টু দিয়ে লোহার ফ্রেমের সাথে লাগিয়ে এই বিশাল আকৃতির সিঁড়িধাপ নির্মাণ করা হয়। পরে অনুরূপ আরেকটি সিঁড়িধাপ নির্মান করা হয় মাঠের পূর্ব পাশেও। ফলে আইব্রক্স পার্কের দর্শক ধারণক্ষমতা সরাসরি ৪০ হাজার থেকে পৌছে যায় ৭৬ হাজারে। ১৯০২ সালের মার্চে এই নির্মাণটি অনুমোদনও পায়। কিন্তু তখন কিছু পত্রিকায় খবর বেরোয় সে কাঠ এবং লোহা দিয়ে নির্মিত স্ট্রাকচারটি মোটেও নিরাপদ নয়। এতবড় নির্মাণের জন্য এইধরনের কাঁচামাল উপযোগী ছিল না। যদিও এইসবে কর্ণপাত করেননি রেঞ্জার্স কর্তৃপক্ষ।

প্রথম আইব্রক্স বিপর্যয় (১৯০২) : এপ্রিল ৫, ১৯০২। নবনির্মিত স্ট্যান্ড অনুমোদন পাওয়ার কিছুদিন পরেই আইব্রক্স পার্কে অনুষ্ঠিত হবার কথা ইংল্যান্ড বনাম স্কটল্যান্ডের মধ্যকার বৃটিশ হোম চ্যাম্পিয়নশিপ এর ম্যাচ। ম্যাচের আগের রাতে আইব্রক্সে ভারি বৃষ্টিপাত হয়। কাঠ দিয়ে নির্মিত স্ট্রাকচারটির উপর বৃষ্টির প্রভাব পরে যা জন্ম দিতে যাচ্ছিল তখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম দুর্যোগের।

যথাসময়ে শুরু হয় ইংল্যান্ড বনাম স্কটল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ। মাঠে উপস্থিত ছিল ৬৮ হাজার ১১৪ জন দর্শক। সদ্য নির্মিত পশ্চিম স্ট্যান্ডেও বিপুল পরিমাণ দর্শক বসে ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। এমন সময়  হুড়মুড়িয়ে ভেঙে যায় কাঠ দিয়ে নির্মিত পশ্চিম গ্যালারির একটা অংশ। ২০ গজের একটি ফাক দেখা দেয় সেখানে। সেই ভাঙা অংশ দিয়ে ৫০ ফুট নিচে পরে যান প্রায় ১২৫ জন দর্শক। সৌভাগ্যক্রমে এত উপর থেকে পড়েও বেঁচে যান বেশির ভাগ মানুষ। কারণ ৫০ ফুট নিচে পরলেও তারা একে অপরের শরীরের উপরে পরছিল। তবুও এই হৃদয় বিদারক বিপর্যয়ে প্রাণ হারান ২৫ জন এবং আহত হন প্রায় ৫১৭ জন। এত বিপুল পরিমাণের হতাহতের আরেকটি কারণ হচ্ছে আতঙ্ক। বিপর্যয়ের পরে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছুটোছুটিতে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান কেউ কেউ এবং আহত হন বিপুল সংখ্যক মানুষ।

১৯০২ সালে এই কাঠের গ্যালারিই দর্শকে পরিপূর্ণ থাকা অবস্থায় ভেঙে পড়ে

কাগজে কলমে প্রথম আইব্রক্স বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কারণ কেউ চিহ্নিত করা নেই। কারণ এই বিপর্যয়ের জন্য কোন প্রকাশ্য অনুসন্ধান করা হয়নি। কিছু বিশেষজ্ঞ এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন নিম্ন মানের কাঠকে। কাঠ সরবরাহকারীকে নরহত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তাকে সেই অপবাদ থেকে নিষ্কৃতি দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে মনে করা হয় স্ট্যান্ড নির্মাণের প্রণালিতেই মূল সমস্যা ছিল। এত বৃহৎ আকৃতির কোন নির্মাণের জন্য কাঠের উপর কখনোই পুরোপুরিভাবে ভরসা করা যায় না। প্রবল সমালোচনার মুখের রেঞ্জার্স এফসি কর্তৃপক্ষ তাদের কাঠের নির্মিত স্ট্যান্ড গুলো সরিয়ে ফেলে। নির্মাণ পরিকল্পনার এত বড় ভুল এবং বিপুল সমালোচনার পরেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ স্টেডিয়াম এর দর্শক ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে আবারো আর্চিবাল্ড এর ওপরই দায়িত্ব দেয়।

১৯৩০ এর দশকে আইব্রক্স পার্ক হয়ে উঠেছিল গ্রেট ব্রিটেনের ২য় বৃহত্তম স্টেডিয়াম। ১৯৩৯ সালের জানুয়ারির ২ তারিখে সেল্টিক এর বিপক্ষে রেঞ্জার্স এর ম্যাচ দেখতে আইব্রক্স পার্কে সমাগত ঘটেছিল  ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৭ জন দর্শকের যা আজও পর্যন্ত ব্রিটেনে কোন ক্লাব ম্যাচের জন্য রেকর্ড। আইব্রক্স পার্কে প্রথম ফ্লাডলাইটের ব্যব্যহার করা হয় ১৯৫৩ সালে আর্সেনাল এর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। আইব্রক্স পার্কেই ১৯৫৬ সালের মার্চে ফ্লাডলাইটের আলোতে সর্বপ্রথম স্কটিশ প্রিমিয়ার লীগের কোন খেলা আয়োজিত হয়। এছাড়াও এই দশকে আইব্রক্স পার্কে আরো কিছু পরিবর্তন করা হয়। মাঠের উত্তর এবং পূর্ব পাশের দর্শকের জন্য আচ্ছাদন এর ব্যবস্থা করে ক্লাব। কাঠামোগত অন্য কোন পরিবর্তন না আনলেও নিরাপত্তা আইনের জন্য মাঠের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৮০ হাজারে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এত কিছুর পরেও নিরাপত্তা নিয়ে আইব্রক্স পার্ককে সমালোচিত হয়েছিল আরো বহুবার।

আইব্রক্সের ১৩ নং সিঁড়িপথ : ভক্তদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বৃটেনে সবচেয়ে মন্দ রেকর্ড ছিল আইব্রক্স পার্কের। ১৯০২ এর প্রথম আইব্রক্স বিপর্যয়ের পরেও বিভিন্ন সময় স্টেডিয়ামটির নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন। বিশেষত স্টেডিয়ামের ১৩নং সিঁড়িপথটি নিয়ে। ১৩ সংখ্যাটিকে বলা হয় অশুভ সংখ্যা। সেটা সত্যতা হয়তো যাচাই করা সম্ভব না। কিন্তু আইব্রক্সের ১৩ নং সিঁড়িপথটি যে আসলেই অশুভতা নিয়ে হয়তো বেশি কেউ দ্বিমত পোষণ করবে না। আইব্রক্সে পার্কের ১৩ নং সিঁড়িপথটি ছিল খুব জনপ্রিয়। মাঠে ঢুকতে বা মাঠ থেকে বের হতে ভক্ত সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতো এই পথটি। কারণ কোপল্যান্ড রোড সাবওয়ে স্টেশনের সবচেয়ে নিকটবর্তী বহিরাগমন পথ ছিল এই চলাচলের পথটি। এছাড়া এই সিঁড়িপথের সিঁড়ি গুলো ছিলো বেশ অনেকখানি খাড়া। তাই নানান সময়েই দুর্ঘটনা ঘটতো এই সিঁড়িপথে।

১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে স্টেডিয়াম এর ১৩ নম্বর সিঁড়িপথটির বেষ্টনী বা রেলিং ভেঙ্গে গেলে পদদলিত হয়ে সেখানে মারা যায় ২ জন সমর্থক। এই ঘটনার পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেই সিঁড়িপথকে ঘিরে অনেক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু তারপরেও এই সিঁড়িপথে ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে ২ বার পদদলনের ঘটনা ঘটে। ১৯৬৭ সালের ঘটনায় ৮ জন আহত হন এবং ১৯৬৯ সালের ঘটনায় আহত হন ২৬ জন। কিন্তু ১৯৭১ সালের জানুয়ারির ২ তারিখ আইব্রক্সের এই ১৩ নং সিঁড়িপথে যা হতে যাচ্ছিলো তা ছিল ব্রিটেনের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিয়োগান্তক ঘটনা।

দ্বিতীয় আইব্রক্স বিপর্যয় (১৯৭১) : জানুয়ারি ২, ১৯৭১। রেঞ্জার্স এবং সেল্টিক এর মধ্য সমানে সমান লড়াই হচ্ছে। খেলা গোলশূন্য থাকে ৯০তম মিনিট পর্যন্ত। ৯০ তম মিনিটে গোল করে বসে সেল্টিক। হতাশ রেঞ্জার্স সমর্থকরা তখনই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু নাটকীয় ভাবে একদম শেষ মুহুর্তে রেঞ্জার্সের হয়ে গোল করে বসেন কলিন স্টেইন। সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

সেদিন গ্যালারিতে ছিল উপচেপড়া ভিড়

প্রতিদিনের মত সেইদিনও স্টেডিয়ামের ১৩ নং সিঁড়িপথে মানুষের স্রোত ছিল সবচেয়ে বেশি। ধারণা করা হয়, হাজার হাজার মানুষের সাথে এই সিঁড়িপথটি দিয়ে নামার সময় কোন একটি শিশু তার বাবার কাঁধে থেকে পড়ে যায় এবং এর মাধ্যমে শুরু হয় একটি সমপ্রতিক্রিয়া ধারার। হাজার হাজার লোকজন একে অপরের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তে থাকে। মানুষের নিচে চাপা পড়তে থাকে মানুষ। আইব্রক্সের সেই ১৩ নং সিঁড়ি ঘরে কিছু সময়ের জন্য তৈরি হয় বিশাল মানবস্তূপ। এই ঘটনায় প্রাণ হারান ৬৬ জন এবং আহত হন ২০০ জনেরও অধিক মানুষ। মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল বুকের উপর চাপ পড়ার দরুন নিশ্বাস না নিতে পারা। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশুও ছিল। সবচেয়ে কমবয়সী শিশু যে এই হৃদয় বিদারক ঘটনায় প্রাণ হারায় তার বয়স ছিল ৯ বছর। ছয়ফুট উঁচু এই মানব স্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারায় মার্কিঞ্চ শহরের একই স্কুলের ৫ জন সহপাঠি শিশুও।

প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছিল সেল্টিক ৯০তম মিনিটে গোল দেয়ার পর কিছু ভক্ত যারা মাঠ ছেড়ে চলে যেতে থাকে তাদের মধ্যেই কিছু সংখ্যক মানুষ আবার দর্শকের উল্লাসধ্বনির শব্দ পেয়ে মাঠে ফেরত যাবার চেষ্টা করে যখন রেঞ্জার্স সমতায় ফিরে আসে। তখন বাইরের দিকে আসতে থাকা সমর্থক এবং ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টায়রত সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কা লাগলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে এই ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানের রিপোর্টে বলা হয় ঘটনার সময় সকলে বাইরের দিকেই যাচ্ছিল।

১৯৮৯ এর হিলসবোরো ডিজেস্টারের পরেই ১৯৭১ এর আইব্রক্স ডিজেস্টারকে ধরা হয় ব্রিটেনের ফুটবল ইতিহাসের করুণতম ফুটবল ট্রাজেডি হিসেবে। এই ঘটনার পরে আইব্রক্স পার্ককে ঢেলে সাজানো হয়। তৎকালীন ক্লাব ম্যানেজার উইলি ওয়াডেল বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের স্টেডিয়াম ওয়েস্টফ্যালেনস্টাডিওন, বর্তমান ইদুনা পার্কে যান আইব্রক্স পার্কের নতুন রূপরেখার অনুপ্রেরণা খোঁজার জন্য। আইব্রক্স পার্কে চলে তিন বছরের পূননির্মাণ কাজ। পুরনো স্ট্যান্ডগুলো বদলে অল-সিটার স্ট্যান্ড যুক্ত করা হয়। আইব্রক্সের পার্কের দর্শক ধারণ ক্ষমতা কমে এসে দাঁড়ায় ৪৪ হাজারে। নব্বইয়ের দশকে স্টেডিয়ামের আরো উন্নয়ন করা হলে ইউয়েফা আইব্রক্স পার্ককে প্রদান করে পাঁচ তারকা স্টেডিয়ামের সম্মান এবং সাথে স্টেডিয়াম এর দর্শক ধারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় ৬ হাজার।

দীর্ঘদিন যাবৎ ১৯৭১ এর সেই করুণ ঘটনার স্মৃতি হিসেবে ছিল কেবল স্টেডিয়াম এক কোণায় একটি ছোট ফলক মাত্র। কিন্তু ১৯৯৫ সালে রেঞ্জার্স কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় ১৯৭১ সালের সেই ঘটনায় নিহত ৬৬ জনের স্মরণার্থে তাদের সম্মান জানানো হবে। ২০০১ সালের ২রা জানুয়ারি ঘটনার ৩০ বছর পূর্তিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আইব্রক্সের সকল বিপর্যয়ে নিহতদের স্মরণে একটি বৃহৎ স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করেন।

২০১১ সালের ২রা জানুয়ারি ঘটনার ৪০ বছর পূর্তির দিনে সেল্টিক বনাম রেঞ্জার্সে এর ম্যাচের আগে উভয় দলের খেলোয়ড়রা ৭১ এর আইব্রক্স বিপর্যয়ে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন।