Jobanকৃষক বিদ্রোহ ও মুক্তিকামী নুরুলউদ্দীন

কৃষক বিদ্রোহ ও মুক্তিকামী নুরুলউদ্দীন

কোনো কোনো ব্যক্তি তার অবিস্মরণীয় কাজের মাধ্যমে পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়ে থাকেন। ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকে স্বর্ণাক্ষরে। যুগে যুগে তারা হয়ে থাকেন প্রেরণার উৎস। অন্ধকারে আলো জোগান। অতি সহজেই তারা ভেঙে ফেলতে পারেন পরাধীনতার শিকল। নিষ্পেষিত মানুষকে তারা শেখান মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে এবং বাঁচার মতো বাঁচতে। এমনই এক মহান এবং অতি সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলউদ্দীন।

কৃষকের ওপর করের বোঝা

কেবলই জেঁকে বসেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন। রংপুর অঞ্চলের মানুষের দেয়া করে কোম্পানির অবস্থা তখন রমরমা। আর ওই করের বোঝা বইতে গিয়ে কৃষকদের প্রাণ হয়েছে ওষ্ঠাগত। এতে অনেক কৃষক সেসময় মারা গেছেন না খেয়ে।

কোম্পানির মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার লোভে অত্যাচার, নিপীড়ন আর লুণ্ঠনে বিপর্যস্ত বাংলা তথা পুরো ব্রিটিশ শাসনাধীন অঞ্চল। কোম্পানির গভর্নর তখন ওয়ারেন হেস্টিংস। তার পাঁচশালা বন্দোবস্তের রীতিতে সৃষ্টি হয় ইজারাদারি ব্যবস্থা। রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চলের ইজারাদারি তখন দেবী সিংহের হস্তগত।

হেস্টিংস ও দেবী সিংহের কর্মকাণ্ড ও কৃষকদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে নিখিলনাথ রায় তার ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’তে লিখেছেন, ‘বাঙ্গলাদেশে যে মূর্তিমতি অরাজকতা দেখা যায়, দেবী সিংহের অত্যাচার তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করে। অর্থলোলুপ কোম্পানির কর্মচারীগণের বিশ্বগ্রাসিনী লালসা নিবৃত্তির জন্য এবং নিজের রাক্ষসী বৃত্তির পরিতুষ্টির জন্য দেবী সিংহ মনুষ্য নামে কলঙ্ক প্রদান করিয়াছে। ওয়ারেন হেস্টিংসের পোষকতায় তাহার অত্যাচার-স্রোত প্রতিনিয়ত শতমুখেই প্রবাহিত হইত। কাহারও সাধ্য ছিল না যে, সে স্রোতের গতি রোধ করে। হেস্টিংসের যতগুলি প্রিয়পাত্র ছিল, তাহাদের মধ্যে কেহ এমন পিশাচ প্রকৃতির পরিচয় প্রদান করে নাই। সুসভ্য ইংরেজ! আজ তোমরা মুসলমান রাজত্বের নিন্দা করিয়া জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়া থাকো; কিন্তু তোমাদের সেই পূর্বকালীন বণিগৃ-রাজত্ব যাহার ভিত্তিতে স্থাপিত, তাহা মনে করিতে গেলে ভয় ও লজ্জায় হৃদয় অবনত হইয়া পড়ে এবং আমাদিগেরও শত ধিক্কার যে, দেবী সিংহের জাতি বলিয়া আজিও আমাদিগকে পরিচয় দিতে হইতেছে।’

দেবী সিংহের পরিচয়

দেবী সিংহ ছিল পূর্ণিয়ার শাসন ও রাজস্ব আদায়কারী। পূর্ণিয়াকে সে পরিণত করেছিল শ্মশানে। তার অত্যাচারে পূর্ণিয়ার কৃষকরা পালিয়ে যান জঙ্গলে। এ জন্য অবশ্য তাকে পদচ্যুত করে হেস্টিংস। কিন্তু ধুরন্ধর দেবী সিংহ প্রচুর অর্থ দিয়ে লোভী হেস্টিংসকে কিনে নেয়। এতে হেস্টিংস প্রীত হয়ে মুর্শিদাবাদের প্রাদেশিক রেভিনিউ বোর্ডের সহকারী কার্যাদক্ষ্যের পদে দেবী সিংহকে নিয়োগ দেয়!

মুর্শিদাবাদের রাজস্বকর্তা হয়ে দেবী সিংহ করারোপ করতে লাগলো দ্বিগুণ উৎসাহে। আর ওই টাকাও আত্মসাৎ করে নামে-বেনামে কিনতে থাকে জমিদারি। ফলে অল্প সময়েই কৃষকরা তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে যায়। তখন ইংরেজ প্রসাশনের টনক নড়ে। তাই হেস্টিংস বাধ্য হয় রেভিনিউ বোর্ড ভেঙে দিতে।

দেবী সিংহের অত্যাচার

আসলে হেস্টিংসের সঙ্গে দেবী সিংহের গভীর সখ্য ছিল। তাই তাকে মুর্শিদাবাদ থেকে সরিয়ে দিনাজপুরের নাবালক রাজা রাধানাথের দেওয়ান হিসেবে দেয় হেস্টিংস। এবার দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চল চলে যায় তার নিয়ন্ত্রণে। এ সময় ওই অঞ্চলের কৃষকদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ দুর্দিন।

রাজা রাধানাথের দেওয়ান হলেও মূলত দেবী সিংহের হাতেই ছিল সব ক্ষমতা। কর বাড়াতে বাড়াতে সে এমন অবস্থায় নিয়ে গেল যে, কৃষকরা ভিটে-মাটি, সহায়-সম্বল বিক্রি করেও তা দিতে পারছিল না। তখন তাদের পালিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

দিনাজপুরের দেওয়ানি লাভ করার পরের বছরেই দেবী সিংহ দিনাজপুর, রংপুর  ও এদ্রাকপুর পরগনার ইজারা নিজের নামে নিয়ে নেয়। ওই সময় আইন ছিল, যে ব্যক্তি দেওয়ান নিযুক্ত হবেন তিনি ইজারা নিতে পারবেন না। কিন্তু ইংরেজ কালেক্টর গুডল্যান্ডের সঙ্গে দেবী সিংহ র ঘনিষ্ঠতা থাকায় তার পক্ষে কোনো কিছু করাই কঠিন হতো না। এছাড়া তার আরেক সহযোগী ছিল অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির হরে রাম।

নিখিলনাথ রায় তার মুর্শিদাবাদ কাহিনীতে দেবী সিংহের অত্যাচারের ইতিহাস তুলে ধরে বলেছেন, ‘যদি কেহ অত্যাচারের বিভীষিকাময়ী মূর্তি দেখিতে ইচ্ছা করেন, যদি কেহ মানব প্রকৃতির মধ্যে শয়তানবৃত্তির পাপ অভিনয় দেখিতে চাহেন, তাহা হইলে একবার দেবী সিংহের বিবরণ অনুশীলন করিবেন। দেখিবেন, সেই ভীষণ অত্যাচারে কত কত জনপদ অরণ্যে পরিণত হইয়াছে। কত কত দরিদ্র প্রজা অন্নাভাবে জীবন বিসর্জন দিয়াছে। কত কত জমিদার ভিখারিরও অধম হইয়া দিন কাটাইয়াছে। কুল-ললনার পবিত্রতা হরণ, ব্রাহ্মণের জাতিনাশ, মানির অপমান, এই সকল পৈশাচিককাণ্ডের শত শত দৃষ্টান্ত ছত্রে ছত্রে দেখিতে পাইবেন। দেবী সিংহের নাম শুনিলে আজিও উত্তরবঙ্গ প্রদেশের অধিবাসিগণ শিহরিয়া উঠে! আজিও অনেক কোমল ফৃদয়া মহিলা মূর্ছিতা হইয়া পড়েন। শিশুসন্তানগণ ভীত হইয়া জননীর ক্রোড়ে আশ্রয় লয়!’

দেবী সিংহের অমানুষিক অত্যাচার ও অবাধ লুণ্ঠনের ফলে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তখন উত্তরবঙ্গের কৃষকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্রোহের দিকে। তারা ঘুরে দাঁড়ালেন ধ্বংসের হাত থেকে। নিজেদের মাটি, ইজ্জত ও অস্তিত্ব রক্ষায় জ্বলে উঠলেন প্রাণপণে। আর তখনই আবির্ভাব ঘটে নুরলদীনের।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অকুতোভয় সৈনিক নুরুলউদ্দীন

নুরুলউদ্দীন ছিলেন সাধারণ কৃষক। মহৎপ্রাণ ওই কৃষকের নেতৃত্বে হাজারো কৃষক বুকের তাজা রক্ত ঢেলে বিদ্রোহী হয়েছিলেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষায়। তিনি সারা জীবন লড়াই করেছেন অন্যায়ের বিরদ্ধে।

কৃষক বিদ্রোহ

কৃষকরা সীমাহীন অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৭৮২ সালের শেষ দিকে সরব হতে থাকেন। প্রথমে কাজীরহাট, কাকিনা, টেপা ও ফতেপুর চাকলা অঞ্চলে কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ শুরু করেন। এরপর কুচবিহার ও দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষকরাও এতে যোগ দেন। তারা নুরলউদীন বা নুরুলউদ্দীনকে তাদের নবাব হিসেবে ঘোষণা দেন। এছাড়া দয়াশীলকে তার দেওয়ান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

নুরুলউদ্দীন কৃষকদের সংগঠিত করতে থাকেন। কৃষকরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকেন। তিনি ভেবেছিলেন ইংরেজ সরকার হয়তো দেবী সিংহের অত্যাচারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। তাই রংপুরের কালেক্টর গুডল্যান্ডের কাছে কৃষকদের স্বাক্ষরসহ অত্যাচারের পৈচাশিকতা উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। কিন্তু দেবী সিংহের লুটের টাকার ভাগ পেতো গুডল্যান্ড। এ জন্য সে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অত্যাচারীরা বিতাড়িত

নুরুলউদ্দীন বুঝলেন সশস্ত্র সংগ্রামই কেবল মুক্তি দিতে পারে এই নরক থেকে। ১৭৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি চূড়ান্ত বিদ্রোহের ডাক দিলেন। ঘোষণা দিলেন, ওই বিদ্রোহ শুধু দেবী সিংহ নয়, তারা আর ইংরেজ শাসন মানবেন না। তার নির্দেশে কৃষকরা খাজনা প্রদান বন্ধ করে দিলেন। এছাড়া দেবী সিংহ ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ব্যয় সংকুলানের জন্য ‘ডিং খরচ’ একটি চাঁদাও দিতে লাগলেন তারা।

নুরালদীনের আহবানে রংপুর, দিনাজপুর, কোচবিহারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বিদ্রোহী বাহিনীতে যোগ দিতে লাগলেন। ওই বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলিম, জাত-পাত নির্বিশেষে সবাই ছিলেন।

বিদ্রোহী কৃষকরা দেবী সিংহের সব কর্মচারীকে রংপুর থেকে তাড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে খাঁন চৌধুরী আমানতুল্লা আহমেদ তার ‘কোচবিহারের ইতিহাস’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ইহার পর কাকিনা, ফতেপুর, ডিমলা, কাজিরহাট এবং টেপা পরগনায় বিদ্রোহীরা দলবদ্ধ হইয়া কর-সংগ্রাহক নায়েব এবং গোমস্তা প্রভৃতিকে যত্র তত্র তত্র বধ করিতে আরম্ভ করে। ডিমলার জমিদার গৌরমোহন চৌধুরী বিদ্রোহীগণকে বাধা দিতে অগ্রসর হইলে তাহারও জীবনান্ত ঘটে।’

কৃষকমুক্তির স্বপ্নের মৃত্যু

অত্যাচারী দেবী সিংহ কৃষকদের সম্মিলিত প্রতিরোধে টিকতে না পেরে গোপনে পালিয়ে যায়। আশ্রয় নেয় রংপুরের ইংরেজ কালেক্টর গুডল্যান্ডের কাছে। আসলে গুডল্যান্ড কোনো ঝামেলায় জড়াতে চায়নি। কিন্তু দেবী সিংহ প্রচুর অর্থ উপঢৌকন দিয়ে বশে আনে গুডল্যান্ডকে। তাই সে বিদ্রোহ দমনে বাধ্য হল।

ইংরেজ সরকার গুডল্যান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একদল সেনাবাহিনী ও কামান প্রেরণ করল রংপুরে। তারা এসেই ঝাপিয়ে পড়ল নুরুলউদ্দীনের বাহিনীকে দমনের জন্য। তারা গ্রামের পর গ্রাম কৃষকদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে থাকল। নারী-শিশু ও বৃদ্ধ নির্বিশেষে সামনে যাকে পেল তাকেই হত্যা করল। বিদ্রোহীরাও তাদের প্রতিরোধ করতে থাকলেন প্রাণপণে। কোথাও কোথাও তারা জয়ও পেতে থাকেন।

এদিকে নুরুলউদ্দীন পরিকল্পনা করেছিলেন ইংরেজদের শক্ত ঘাঁটি মোগলহাট আক্রমণের জন্য। এ জন্য নুরুলউদ্দীনের অনুগতরা পাটগ্রামে মিলিত হন। তখন কৃষকদের অস্ত্র বলতে লাঠি-সোঠা আর দা-কাঁচিই ছিল।

লেফটেন্যান্ট ম্যাকডোনাল্ড বিদ্রোহীদের সংখ্যা জেনে শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাই সে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ছদ্মবেশে সাধারণ পোশাকে রাতে ঘিরে ফেলে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি পাটগ্রাম। ১৭৮৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঘুমন্ত স্বাধীনতাকামী কৃষকদের ওপর কাপুরুষের মতো ভারি কামানসহ আক্রমণ চালায় সে ও তার বাহিনী।

ঘুমন্ত অবস্থায় ইংরেজদের অতর্কিত আক্রমণে কৃষকরা দলে দলে মারা পড়েন। ব্যর্থ হন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। তাদের নবাব নুরুলউদ্দীনের বিশ্বস্ত দেওয়ান দয়াশীল নিহত হন। নবাবও যুদ্ধে গুরুতর আহত হন। অসম যুদ্ধে শঠতার মাধ্যমে জয়লাভ করে ইংরেজ বাহিনী। পরাজিত হন নুরুলউদ্দীন, পরাজিত হন নিপীড়িত, নির্যাতিত কৃষক, পরাজিত হয় মানুষ ও মানবতার একটি দুর্দান্ত লড়াই। কৃষকদের যা কিছু ছিল তাও লুট হয়ে যায় এই পরাজয়ের পর।

যুদ্ধে আহত অবস্থায় নুরুলউদ্দীনকে আটক করে ইংরেজ বাহিনী। এর দু’দিন পরই ইংরেজদের নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেন নির্যাতিত কৃষকদের মুক্তির স্বপ্ন দেখানো নবাব নুরুলউদ্দীন।

বিচারের রায়

ওই যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পরও বিদ্রোহী কৃষকরা বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। তারা খাজনা না দেয়ায় লাখ লাখ টাকা বাকি পড়লে টনক নড়ে ইংরেজ সরকারের। পিটারসনকে পাঠানো হয় ঘটনা তদন্তে। তিনি এসে ওই অঞ্চলের মানুষের ‍ওপর চালানো নির্যাতনের সঠিক বিবরণ রেভিনিউ কমিটির কাছে তুলে ধরেন। অত্যাচারের প্রমাণ পেয়ে দেবী সিংহ ও রংপুরের কালেক্টর গুডল্যান্ডকে তলব করা হয় কলকাতায়।

দেবী সিংহ প্রচুর অর্থ নিয়ে ছুটে যায় কলকাতায়। তা বিতরণ করে বিচারকমণ্ডলীর মধ্যে। বিচারে দেবী সিংহ ছাড়া পেল। কিন্তু তার সহকারী হরে রাম দোষী সাব্যস্ত হয়। তাকে রংপুর থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া নির্যাতিত কয়েক কৃষককে ক্ষতিপূরণও দেয়া হয়।

রায় যাই হোক, কৃষকরা কোনোমতেই দেবী সিংহকে মানতে রাজি ছিলেন না। এর মধ্যে হেস্টিংস দেশে ফিরে যান ইংল্যান্ডে। তার জায়গায় আসেন লর্ড কর্নওয়ালিশ। দেবী সিংহ চেষ্টা করেছিলেন লর্ড কর্নওয়ালিশকে বাগে আনতে। কিন্তু তাতে সে সফল হয়নি।

নুরুলউদ্দীন এবং একদল মুক্তিকামী অকুভোতয় কৃষক হয়তো সেদিন চূড়ান্ত অর্থে বিজয় লাভ করতে পারেননি। হয়তো তারা দেখে যেতে পারেননি একটি স্বাধীন অনাচার, অত্যাচারমুক্ত ভূখণ্ড। কিন্তু একজন নুরুলউদ্দীন কিংবা একদল বিদ্রোহী কৃষক তাদের জীবন দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে লড়াইযের উদাহারণ সৃষ্টি করে গেছেন তা প্রেরণা জুগিয়েছে এ দেশের নিপীড়িত মানুষের মনে।