হত্যা, অপহরণ যদিও পৃথিবীর তাবৎ গোয়েন্দা সংস্থাই কম বেশি করে থাকে। তবে কিছু কিছু ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশ পড়ে যায় রীতিমতো বেকায়দায়। যেমন জামাল খাশোগির হত্যার ঘটনা। তুরস্ক এই ঘটনায় যে ভূমিকা নিয়েছে তা সৌদিকে রীতিমতো খাওয়াচ্ছে নাকানি-চুবানি। আর তুর্কি গোয়েন্দারা সৌদির পুরো পরিকল্পনাকে করে দিয়েছে লেজে গোবরে।
অকাট্য প্রমাণ আর চাপের মুখে বারবার ভাষ্য বদলাচ্ছে সৌদি। তবে এত বড় হত্যা পরিকল্পনায় কোন পরিকল্পনা করেই কি আগায়নি সৌদি গোয়েন্দারা? উত্তর হচ্ছে, নিয়েছিল কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু ভুল করেছিল তারা। তার মধ্যে অন্যতম একটি হল খাশোগির বেরিয়ে যাওয়ার নাটকটি মঞ্চস্থ করা। খাশোগির চেহারার ছদ্মবেশ ধারণ করার জন্য সৌদির ১৫ সদস্যের দলে আনা হয়েছেল মোস্তফা আল মাদানি নামক একজন এজেন্টকে যার চেহারা ছিল খাশোগির কাছাকাছি। খাশোগিকে হত্যার পর তার পরিহিত জামা কাপড় পরে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার নাটক মঞ্চস্থ করেন তিনি।
তাদের এই পরিকল্পনা সফল হলে উল্টো চাপে পড়ত তুরস্ক। কারণ সেই ফুটেজ দেখিয়ে সৌদি বলত খাশোগি বের হয়ে গেছে দূতাবাস থেকে বরং তাকে গুম করেছে তুরস্ক নিজে! হয়তো তুর্কিদের কাছে অডিও বা এই ধরণের কোন প্রমাণ না থাকলে তাদের ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল প্রবল।

তুর্কি গোয়েন্দারা এই পুরো নাটকের ফুটেজ ফাঁস করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছদ্মবেশ ধারণ করা লোকটি মোস্তফা আল মাদানি যার চেহারা ও আকার খাশোগির মতই তিনি খাশোগির জামা কাপড় পরে দূতাবাস থেকে বেরিয়ে ট্যাস্কি ভাড়া করে দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যান। আবার আরেকটি ফুটেজে তাকে দেখা যায় তুরস্কের ব্লু মসজিদের কাছে যেখানে তাকে একটি টয়লেটে ঢুকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে যখন তিনি আবার সিসিটিভিতে উদয় হন তখন তার পরনে দেখা যায় তার নিজের জামা। খাসোগির পরিহিত জামা তাকে ফেলে দিতে দেখা যায় ময়লার বাক্সে। কয়েক ঘন্টা পর নিজের কাপড় পরে দূতাবাসে ঢুকতে দেখা যায় তাকে।
সবকিছু ঠিকই ছিল। খাসোগির বাগদত্তা হেতিজা যখন দেরি দেখে দূতাবাসের একজনকে জিজ্ঞাসা করেন তখন তারা সেই অনুসারেই জানিয়েছিল খাশোগি পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছেন।
কিন্তু সমস্যা বাধে অন্য জায়গায়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় সৌদি কর্মকর্তারা এই ফুটেজ রিভিউ করে নিজেদের ভুল ধরতে পেরেছিল তাই সেই ছবি প্রকাশ করতে পারেনি। কারণ মাদানির জুতা পরিবর্তন করা হয়নি। মাদানি যে জুতা পরে ঢুকেছিলেন সেটার উপরই খাশোগির জামা কাপড় পরে ছদ্মবেশ নিয়ে শেষ করেছিলেন নাটক।
বেশ কয়েকবার মনমত ব্যাখা দিয়ে দূতাবাসের ভেতরে হত্যার কথা স্বীকার করেছি সৌদি আরব। আর তুরস্কের মতে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অল্প অল্প তথ্য ফাঁস করে সৌদিকে রীতিমতো নাচাচ্ছে তারা। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, এর আসল সত্য বের করার জন্য বদ্ধপরিকর সেই সাথে কৌশলী। তবে জুতাই যে সৌদিদের একটি বড় পরিকল্পনায় কাল হয়ে দাড়িয়েছিল তাতো বলাই যায়!