একটি স্বপ্নের সমাধি ও আরেকটি স্বপ্নের জন্য দুয়ার খোলার জন্য পাড়ি দিতে হয় ঝড় ও বাধা বিপত্তি। কখনো কখনো জীবনচক্রের গল্পটি অঙ্কুরেই থেমে যায়। সেটিতে দমে না গিয়ে ফুলের পরবর্তী বংশধররাও নিজেদের সকল বাধা পেরিয়ে এক সময় পরিপূর্ণ সুরভিত ফুল হয়ে ফোটে। আজকের গল্পটি অনেকটা এরকমই।
এ রজন্য আপনাকে ফিরে যেতে হবে হিটলারের যুগে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়টাতে। ১৯৪৫ সাল। সবেমাত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। পুরো ইউরোপেয়ে এর প্রভাব পড়েছিলো। বাদ যায়নি ম্যানচেস্টার শহরও। জার্মান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত বোমা পড়লো শহরের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড’র ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামে। বিধ্বস্ত হলো ভক্তদের ভালোবাসার নাম ‘থিয়েটার অফ ড্রিমস’ খ্যাত ওল্ড ট্রাফোর্ড। এমনিতেই তখন ক্লাবের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিলনা এরপর আবার মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। ক্লাব কর্মকর্তারা খুঁজছিল একজন ত্রাণকর্তার যিনি এসে ক্লাবটির হাল ধরবেন। তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত মানুষটি পেয়ে গেল। তিনি আর কেউ নন একজন স্বাধীনচেতা, উচ্চবিলাসী ব্রিটিশম্যান ম্যাট বাসবি। তখন ক্লাবের ছিল না নিজস্ব কোনো ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি এমনকি তখন হোম ম্যাচগুলো একটি নির্দিষ্ট টাকা ভাড়া দিয়ে নগরপ্রতিদ্বন্দী ম্যানসিটির স্টেডিয়াম ‘মেইন রোডে’ খেলতে হতো।
খেলোয়াড়ি জীবনে বাসবি ছিলেন ম্যানসিটির অধিনায়ক, যদিও লিভারপুলে তিনি তার ক্যারিয়ারের সিংহভাগ কাটান। নেতৃত্ব গুণ তার বেশ ভালোই ছিল।তাই ক্লাবটির ম্যানেজার হিসেবে এসে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ক্লাবটিকে গুছিয়ে ফেলেন। তিনি শুধু বর্তমান নয়, দশ বছর পরের কথাও চিন্তা করতেন। তাই মেইন টিমের পাশাপাশি আরেকটি ইউথ টিম গঠন করেন। টিমটিকে ট্রেইন করার দায়িত্ব তুলে দেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী জিমি মারফিকে। আর স্কাউট বব বিশপকে দায়িত্ব দেন বিভিন্ন ক্লাব থেকে ইয়ুথ ট্যালেন্ট খুঁজে আনার।
১৯৪৮ সালে এফএ কাপ জিতে নেয় ইউনাইটেড । ১৯৪৯, ৫০, ৫১ সালে লিগ রানার্সআপ হয় ইউনাইটেড। ১৯৫২ সালে ৪১ বছর পর লিগ শিরোপা জয় করে ইউনাইটেড। কিন্তু ততদিনে যে স্কোয়াডের অধিকাংশ প্লেয়ারই বুড়িয়ে গিয়েছিল! ভবিষ্যত সমস্যার কথা বাসবি আগেই চিন্তা করেছিলেন যার ফলে তাকে রিপ্লেসম্যান্ট বের করতে কোনো অসুবিধা হয়নি। রজার বার্নসকে দিয়ে শুরু, এরপর একে একে ‘বিগ ডানকান’ হিসেবে পরিচিত ডানকান অ্যাডওয়ার্ডস, ডেভিড প্রেগ, মার্ক জোনস, ডেনিস ভায়োলেট (যার সম্পর্কে বিখ্যাত উক্তি ছিল, ‘Born To Score Goals’), লিয়াম হলেয়ান, ভবিষ্যৎ ইংল্যান্ড তারকা বিল ফোকস, গোলকিপার রে উড, ‘গোল পোচার’ হিসেবে পরিচিত টমি টেইলরকে নিয়ে এসে সম্পূর্ণ নতুন টিমের সূচনা করেন। সকলের গড় বয়স ছিল ২২-২৩ বছর। সেই তরুণগুলোকে পত্রপত্রিকা ও মিডিয়া ‘বাসবি বেইবস’ হিসেবে পরিচিত করে এবং এটি তাদের কমন নাম হয়ে যায়। ‘বাসবি বেইবস’ টার্মটি প্রথম ইউজ করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইভিনিং নিউজ’র সাংবাদিক ফ্রাংক নিকলিন।
তৎকালীন সময়ে ফার্স্ট ডিভিশনে এত কমবয়সী খেলোয়াড় নামানোর দুঃসাহস কোনো ম্যানেজার করতো না। কিন্তু দুঃসাহসী বাসবি সেই দুঃসাহস করেই ফেললেন। কিছুদিনের মধ্যেই বাসবি তার আরেকটি বেবি জুটিয়ে ফেললেন যার নাম ‘ববি চার্ল্টন’। ববির অভিষেকের দিন ইংলিশ পত্রিকাগুলোতে এভাবে হেডলাইন এসেছিল— Busby Have A New Baby.

ফার্স্ট ডিভিশনে খেলার আগেই বাসবি বেইবসরা তাদের আগমনী বার্তা দিয়েছিল সেই ১৯৫৩ সালেই। এফএ ইয়ুথ কাপে উলভারহ্যাম্পটনকে ৭-১ গোলে হারিয়ে তার চ্যাম্পিয়ন হয়। এর মধ্যে প্রথম চার গোল হয়েছিল প্রথম ১৬ মিনিটে। বাসবি বেইবসরা ১৯৫৫-৫৬ সিজনে ফার্স্ট ডিভিশন টাইটেল জিতে নেয়। বাসবি তার বেইবসদের ইউরোপিয়ান কম্পিটিশনে বাজিয়ে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু বাদ সাধে ফুটবল লিগ সেক্রেটারি অ্যালান হার্ডেকার। তিনি আগের সিজনের চ্যাম্পিয়ন চেলসিকেও অংশগ্রহণ করতে দেননি। কিন্তু উচ্চবিলাসী বাসবি ফুটবল লীগের প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অমান্য করে ইউরোপিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করেন।
সেবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে সক্ষম হন।পরের বার পুনরায় লিগ যেতে ইউনাইটেড।সেবারতো ইউরোপিয়ান কাপের এক ম্যাচে আন্ডারলেখটকে গুনে গুনে দশ গোল দেয় বাসবি বেইবসরা। ডেনিশ ভায়োলেট করেন হ্যাট্রিক। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালের হোম ম্যাচে রেডস্টার বেলগ্রেডকে ২-১ এ পরাজিত করে ইউনাইটেড। তৎকালীন সময়ে লিগের ম্যাচগুলো সপ্তাহের শুরুতে আর ইউরোপিয়ান কাপের ম্যাচগুলো হতো সপ্তাহের শেষে। রেডস্টার বেলগ্রেডের সাথে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে আবার লিগ ম্যাচ ধরার জন্য বাসবি একটি চাটার্ড প্লেনের ব্যবস্থা করেন। বেলগ্রেডের সেই ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়। দুই লেগের ফল মিলিয়ে ইউনাইটেড সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে যায়। বেলগ্রেড থেকে ফেরার পথে প্লেন মিউনিখে যাত্রাবিরতি দেয়। রিফুয়েলিং শেষে সেটি টেক অফ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ইতিমধ্যে রানওয়েতে তুষারপাতের ফলে বরফের স্লাইস জমে যাওয়ায় দুইবার টেকঅফ করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু পরবর্তী লিগ ম্যাচ ধরতে হলে দেরি করার কোনো ফুরসতই ছিলনা। বিলি হলেয়ান হয়তো কিছুটা বিপদ আচ করতে পেরেছিলেন তিনি বললেন—“This May Be Death But I’m Ready”.এরপর তারা তৃতীয় বার প্লেনে উঠতে যাওয়ার সময় আলোকচিত্রী একটি ছবি তুলে নেন।
সে সময়ে মুচকি হেসে পোজ দেয়া ডানকান অ্যাডওয়ার্ডসরা জানতেন না যে এটিই তাদের জীবিত অবস্থায় একত্রে শেষ ছবি। পাইলট থাইন প্লেন স্টার্ট দিলেন ব্রিটিশ ইউরোপিয়ান এয়ারওয়েজের ৬০৯ বিমানটিকে। পাইলট ১১৭ নট গতি তুলতে সক্ষম হলো কিন্তু সেটি রানওয়ের বরফের শ্লাসের কারণে আরো কমে যায় যা টেক অফ করার জন্য পর্যাপ্ত ছিলনা। ফলে বিমানটি গিয়ে আঘাত করে একটি বাড়িতে। বাড়ির লোকজনরা ভাগ্যবান হলেও ভাগ্যবান ছিলেন না ম্যানচেস্টারের ফ্লাওয়াররা। একে একে সাত জন প্লেয়ার জোনস, কোলম্যান, ক্লাবের হয়ে ১০০ এর উপর গোল করা টমি টেইলর, রজার বার্নস, উইলান, বেইন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। হ্যারি গ্রেগ ও বিল ফোকস ততটা আঘাতপ্রাপ্ত না হওয়ায় তারা কোনোমতে বাকিদের বের করে আনেন। সকলকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ডানকান অ্যাডওয়ার্ডস ও স্যার ম্যাট বাসবির অবস্থা ঘোরতর আকার ধারণ করে। জনি ব্যারি, জ্যাক ব্লাঞ্চ আর কখনোই ফুটবল খেলতে পারেননি। স্যার ববি চার্ল্টন হাসপাতালে কিছুদিন থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ৬ ফেব্রুয়ারির এই দুর্ঘটনায় ২২ জন ইতিমধ্যে প্রাণ হারান। পুরো বিশ্বের মানুষের তখন একটাই প্রার্থনা ছিল যেন সার্ভাইভারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ে হেরে যান বিগ ডানকান। ম্যানচেস্টারে তখন শোকের মাতম নেমে আসে। রেড ডেভিলরা ভেবে পাচ্ছিলনা যে কে আর তাদের হয়ে ডান ও বাম পায়ের সমান গতির ক্ষিপ্র গতির শটে বল জালে জড়াবে? ডিফেন্স যখন হিমসিম খাবে প্রতিপক্ষকে সামলাতে কে তখন লেফট ফ্লাংক থেকে দৌড়ে এসে বলটি ক্লিয়ার করবে?
ইংল্যান্ড হারিয়েছিল তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ কমপ্লিট ফুটবলারকে যার দেখা শুধু মিডফিল্ডে নয় ডিফেন্স, অ্যাটাক সব জায়গায় মিলত। পরদিন পত্রিকার হেডলাইন এসেছিল, “Duncan Edwards England’s Giant, dies In Hospital”. Daily Mirror -র শিরোনাম ছিল, “A Boy Who Played Like A Man”.
কিন্তু যখন পুরো ফুটবল বিশ্ব শোকাহত তখন লিভারপুল ও ওয়েস্টব্রুম ফ্যানরা মেতে উঠেছিল এক নিষ্ঠুর খেলায়। বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করে এবং একের পর এক ব্যাঙ্গাত্নক গানরচনা শুরু করে। এবং এই গান গুলোতে সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা হত ‘ManU’ টার্মটি। যেমন, “Man U Man U went on a plane Man U Man U never came back again”, “Man U Never Intended Coming Home” (if you combine the first letter of each word you get the word ‘munich’). এমনকি তারা দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত ডানকান অ্যাডওয়ার্ডসের মৃত্যু নিয়েও অপমানজনক গান রচনা করে, Duncan Edwards is Manure, rotting in his grave, man you are Manure- rotting in your grave”. এরপর থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফ্যানরা ‘ManU’ টার্মটাকে আর ব্যবহার করেন না। কারণ এই টার্মটা এখনও তাদের হৃদয়ে ছুরিকাঘাতের মত কষ্ট দেয়। তবে এইটা অনেক দুঃখজনক যে বাংলাদেশের অনেক ইউনাইটেড ফ্যান না জেনেই ‘ManU’ টার্ম ব্যবহার করেন।
সুতরাং শুধু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সাপোর্টারই না বরং যে কারোরই মানবিক দিক থেকে হলেও এই ঘটনা জানার পর থেকে আশা করি আর কখনও ‘ManU’ টার্ম ব্যবহার করা উচিৎ না। এতক্ষণ তো বললাম মাঠের বাহিরের ঘটনা কিন্তু মাঠের ভিতরে কি ঘটেছিল? ইউনাইটেড কিভাবে কামব্যাক করল মেইন টিমের প্লেয়ার ব্যতিত? এর উত্তর পেতে হলে আপনাকে আবার ৬ ফেব্রুয়ারি দুর্ঘটনার দিনে ফিরে যেতে হবে। ক্লাবের সহকারি ম্যানেজার জিমি মারফি তখন সাময়িক সময়ের জন্য ওয়েলস ন্যাশনাল টিম’র দায়িত্ব নিয়েছেন। প্লেন ক্রাশের খবর শুনামাত্রই মিউনিখ হসপিটালে ছুটে যান। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এ মুহুর্তে তাকেই হাল ধরতে হবে ভেঙে পরলে চলবেনা। তাই নিজেকে শক্ত করে নিলেন মানসিকভাবে। হাজার হলেও তো তিনি মানুষ। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না যে যাদের ছোট থেকে ট্রেইনিং করিয়েছেন তাদের আর দেখবেন না।
যাদের সাথে প্রতিদিন ট্রেইনিং গ্রাউন্ডে দেখা হতো আজ সেখানে তাদের কফিন যাবে! যাদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন ইউরোপ জয়ের তারা আজ তাকে রেখে চলে গেল! এমনকি তার গুরু স্যার বাসবির বাঁচাও তখন শঙ্কার মুখে। বাসবি তাকে ভাঙা ভাঙা গলায় এতটুকুই বললেন, “Keep the red flag flying high”. মারফি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন গুরুর নির্দেশ পালনের। দায়িত্ব তুলে নেন দলের। যুবদল নিয়েই খেলা চালিয়ে যান। লিগ কোনোভাবে শেষ করলেও এফএ কাপের ফাইনালে পৌছতে সক্ষম হন। আর ওদিকে দুমাসের মাথায় বাসবি মোটামুটি সুস্থ হয়ে ওঠেন। মিউনিখ হাসপাতাল থেকেই রেডিওযোগে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ফ্যানদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। এফএ কাপ ফাইনালে হারের মধ্য দিয়েই সিজনটি শেষ হয়।
সেবারের ইউরোপিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ট্রফি ইউনাইটেডকে অফার করে ইউনাইটেড তা ধন্যবাদ জানিয়ে রিজেক্ট করে। পরবর্তীতে তারা সেটি ইউনাইটেডকে উৎসর্গ করে। মাদ্রিদ লিজেন্ড পুসকাস ও ইউনাইটেডের হয়ে খেলার আগ্রহ প্রকাল করেন কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ইংলিশ না জানার কারণে তিনি খেলতে পারেননি। রাইভালরি ভুলে বিল শ্যাংকলি তার লিভারপুল টিমের প্লেয়ার অফার করে। ফুটবলের সৌন্দর্য এবং কুৎসিত দিকটা এখানেই। দেখুন একদিকে লিভারপুল ম্যানেজার শ্যাংকলি ইউনাইটেডকে প্লেয়ার অফার করেছিল অন্যদিকে তাদেরই কিছু উগ্র ফ্যান ডানকান অ্যাডওয়ার্ডস’র মৃত্যু নিয়ে কটাক্ষ করেছিল।
যুগে যুগে ফুটবল এভাবেই একদল সুস্থ ও বিকৃত মানসিকতার ফ্যানের জন্ম দিয়েছে। নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন আপনি কোন দলে? যাই হোক আলোচনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলাম।এবার ব্যাক করি। বাসবি সুস্থ হয়ে ফিরে অনেকটা হতাশাগ্রস্থ হন। দুর্ঘটনার জন্য নিজেকে দায়ী করেন। কিন্তু তার স্ত্রী অনেক বুঝানোর পর পুনরায় ফিরে আসেন এবং টিমকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন। বুঝতে পেরেছিলেন নিহত বেইবসদের জন্য হলেও ইউরোপিয়ান কাপটি জেতা উচিত।
এর ঠিক দশ বছর পর ১৯৬৮ সালে ইউনাইটেড সেমি ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও ফাইনালে বেনফিকাকে হারিয়ে জিতে নেয় ইউরোপিয়ান কাপ। দ্বিতীয় প্রজন্মের বাসবি বেইবসদের মাঝেই ইউনাইটেড খুঁজে পেয়েছিল তার হারিয়ে যাওয়া ফ্লাওয়ারদের। জর্জ বেস্ট’র ডান ও বাম পায়ের সমান শক্তির প্রতিটি শট মনে করিয়ে দিয়েছিল বিগ ডানকানকে। ডেনিশ ল’র নিঁখুত ফিনিশিং’র মাঝেই টমি টেইলরদের খুঁজে পেয়েছিল রেড ডেভিলরা। আর বেঁচে যাওয়া স্যার ববি চার্ল্টন হয়েছিলেন ইউনাইটেড’র সর্বকালের সেরাদের একজন। ইউনাইটেড’র পরবর্তী দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আসে মিউনিখ ট্রাজেডির দশ’র গুনিতক বছরে (১৯৯৮, ২০০৮)।
বাসবি বেইবসদের নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক গান।এর মধ্যে বিখ্যাত একটি গান Man Utd Calypso’র কয়েকটি লাইন হচ্ছে এরকম:
Manchester United,
A Bunch Of Bouncing Busby Babes
They Deserve To Be Knighted. If Ever
They’re Playing In Your Town,
Get Yourself To That Football Ground.
Take A Lesson Come To See,
Football Tought By Matt Busby
দুর্ঘটনাটি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে নিচের কথাগুলোয় :
“A Broken Plane
A Broken Dream
A Broken Team
No Word Said, a Silent Bow
We Loved You Then, we Love You Now.”
মিউনিখ এয়ার ক্রাশ শুধু হতাশার গল্প নয়, এটি একটি সাফল্যের সূচনামাত্র। এর উপর ভর করেই দাঁড়িয়ে আজ ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড। আজ ঘটনার ৬১তম বছরপূর্তি রেড ডেভিলসরা ভুলে যায়নি তাদের সেই ফ্লাওয়ার, সেই বেইবসদের। তাই আজো আপনি ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়ে একটি ব্যানার দেখতে পাবেন যাতে লিখা— “Feb 6th 1958 The Flowers Of Manchester”. তারা আজো রেড ডেভিলদের জন্য এক প্যাশনের নাম।
we will never die,
we will never die
we keep the red flag flying high
coz Man utd never die
রেড ডেভিলদের বিখ্যাত চ্যান্টটির মত বাসবি বেইবসবরা মারা গিয়েও বেঁচে আছেন ফ্যানদের হৃদয়ে। এই ট্রাজেডি নিয়ে তৈরি হয়েছে United (2011) মুভিটি। ফুটবল ভক্ত হিসেবে আপনারা একবার মুভিটি দেখতে পারেন।